অনলাইন ডেস্ক | আপডেট: ৮ মে ২০২৬**
বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রাণঘাতী ‘হান্টাভাইরাস’। সাম্প্রতিক এক প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যুর পর সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, এটি কোভিড-১৯-এর মতো বড় কোনো মহামারির রূপ নেওয়ার আশঙ্কা নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পর্যবেক্ষণ
ডব্লিউএইচও-র জরুরি পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভাইরাসটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। সংস্থার কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে আসা মূল পয়েন্টগুলো হলো:
* **ভিন্ন প্রকৃতির ভাইরাস:** এটি কোনো নতুন ভাইরাস নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরেই প্রকৃতিতে বিদ্যমান।
* **সীমিত সংক্রমণ:** ডব্লিউএইচও-র মহামারি ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক ডা. মারিয়া ভ্যান কেরখোভ জানিয়েছেন, এটি কোভিডের মতো সহজে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। মূলত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বা ‘ক্লাস্টারে’ এর সংক্রমণ সীমাবদ্ধ থাকে।
যথাযথ আইসোলেশন এবং কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে এই ভাইরাসের সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া সম্ভব।
সাধারণত হান্টাভাইরাস সরাসরি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর নজির খুব একটা নেই। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী সংক্রমণের প্রধান মাধ্যমগুলো হলো:
1. **ইঁদুর থেকে মানুষ:** মূলত ইঁদুরের মলমূত্র, লালা বা এদের সংস্পর্শে আসা বাতাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে এই ভাইরাস প্রবেশ করে।
2. **বিরল মানব-সংক্রমণ:** অতি সম্প্রতি একটি ক্রুজ জাহাজে ‘অ্যান্ডিস স্ট্রেইন’-এর মাধ্যমে সীমিত আকারে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত বিরল।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ঝুঁকি
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক ডা. টেড্রস আধানম গেব্রেয়েসুস জানিয়েছেন, ভাইরাসটির **ইনকিউবেশন পিরিয়ড (সুপ্তিকাল)** দীর্ঘ হওয়ায় নতুন কিছু রোগী শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বেশ কম।
“এটি ২০১৮-১৯ সালে আর্জেন্টিনায় ঘটা একটি সীমিত প্রাদুর্ভাবের মতোই একটি ঘটনা। যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করলে বড় কোনো বিপদের আশঙ্কা নেই।”
*ডা. আবদিরাহমান মাহমুদ**, পরিচালক (অ্যালার্ট অ্যান্ড রেসপন্স বিভাগ), WHO।
পরিশেষে, হান্টাভাইরাস নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ইঁদুরবাহিত সংক্রমণ থেকে দূরে থাকাই এখন প্রধান সতর্কতা।