চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃত শিশুদের একটি বড় অংশই টিকা নেওয়ার বয়স হওয়ার আগে প্রাণ হারিয়েছে। সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, মৃত শিশুদের প্রায় **৬৩ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে**, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
### **পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ**
গত ১৫ মার্চ থেকে রাজধানীর তিনটি প্রধান হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে:
* **শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট:** মৃত ২৯ শিশুর মধ্যে ১৯ জনের বয়সই ছিল ৯ মাসের কম। এদের মধ্যে ২৮ জনই ঢাকার বাইরের।
* **সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল:** মৃত ৩৪ জনের তথ্যে দেখা যায়, ২৯ জনের বয়স ৯ মাসের নিচে।
* **ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতাল:** এখানে ভর্তি হওয়া ৪,৬৭৯ জন রোগীর ১৭ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম। মৃত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ ও হার্ট ফেইলরের মতো জটিলতা দেখা গেছে।
* **সারাদেশের চিত্র:** গত দুই মাসে হাম ও হামের উপসর্গে মোট **৪৩৯ জন শিশুর মৃত্যু** হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।
### **বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও কারণ**
সাধারণত শিশুরা ৯ মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে, যে কারণে ৯ মাস পূর্ণ হলে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে এর আগেই শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে এর কারণ হতে পারে:
1. **অপুষ্টি:** মৃত শিশুদের অধিকাংশেরই পুষ্টির অভাব ছিল।
2. **ইমিউনিটি গ্যাপ:** টিকার কাভারেজ কমে যাওয়ায় ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে (সার্কুলেট করছে)।
3. **ভাইরাসের মিউটেশন:** ভাইরাসের গঠনে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, তা নিয়ে গভীর গবেষণার প্রয়োজন দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
4. **অসেচতনতা:** সঠিক নিয়মে শিশুদের খাবার না খাওয়ানোর ফলে ‘অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া’র মতো জটিলতাও মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
> **সতর্কবার্তা:** হামে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং কেন সময়ের আগে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমছে, তা নিয়ে দ্রুত বৈজ্ঞানিক গবেষণা জরুরি।
>