admin_news ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ৫:৪৬ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
সৈয়দ উসামা বিন শিহাব ঢাকা উত্তর ব্যুরো প্রধান:- বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে টানাপোড়েনের প্রভাব এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে। সরকারের নতুন প্রজ্ঞাপনে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা পরিবহন, উৎপাদন ও নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ঘোষণায় প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রল ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার থেকে কার্যকর হওয়া এ দরবৃদ্ধি সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় মূল্য সমন্বয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরবরাহে চাপ, পাম্পে ভিড় দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পরপরই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় চাহিদা মূল্যায়ন করে সরবরাহ পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
বৈশ্বিক প্রভাব ও যুদ্ধ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করার পর কিছুটা কমলেও সরবরাহ অনিশ্চয়তা কাটেনি। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ঘিরে উত্তেজনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর।
স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণে নতুন বাস্তবতা সরকার ২০২৪ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করে। সেই ব্যবস্থার আওতায় আমদানি ব্যয়ের ভিত্তিতে মাসভিত্তিক দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে চলতি মাসের শুরুতে মূল্য অপরিবর্তিত রাখার পর মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ এ বৃদ্ধি বাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে।
অতীতের রেকর্ড ভাঙল বর্তমান দর বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের আগস্টে জ্বালানির দাম বড় ধরনের বৃদ্ধি পেলেও এবারের দরই সর্বোচ্চ। ডিজেলের পাশাপাশি অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিন—সব ক্ষেত্রেই নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ডিজেলের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সাময়িক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। জাহাজ বিলম্ব, অতিরিক্ত ক্রয় প্রবণতা এবং বাজারে আতঙ্ক—এই তিনটি কারণে চাপ বেড়েছে।
বর্তমানে মজুত ও আগত চালান মিলিয়ে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অকটেন ও পেট্রলের ক্ষেত্রেও বাড়তি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা যায়।
অস্বাভাবিক চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃত চাহিদার তুলনায় বাজারে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে, যা আতঙ্কপ্রসূত ক্রয়ের ফল। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি নজরদারি জোরদার করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মত জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সরবরাহ বৃদ্ধি নয়—ব্যবস্থাপনা, বিতরণ কাঠামো এবং বাজারে আস্থার সংকট দূর করাও জরুরি। বিকল্প সরবরাহ উৎস, প্রযুক্তিনির্ভর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং চাহিদা ব্যবস্থাপনা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে সংকট নিরসন কঠিন হতে পারে।











