অপরাধ

বউ বাপের বাড়ি, প্রেমিকাকে বাড়িতে ডেকে হত্যা করে ফ্রিজে রাখলেন প্রেমিক।

  admin_news ৩১ মার্চ ২০২৬ , ৫:০৩ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

স্ত্রী যখন বাবার বাড়িতে ছিলেন, তখন চিন্তাদা রবীন্দ্র তার প্রেমিকা পলিপল্লি মৌনিকাকে অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে নিজের বাসায় সময় কাটাতে ডাকেন। কিন্তু সেই সাক্ষাৎ মৌনিকারের জন্য হয়ে ওঠে মৃত্যুর ফাঁদ। দুজনের মধ্যে ঝগড়া বাধে, যা শেষ হয় মৌনিকাকে হত্যা করে তার দেহ টুকরো করার মাধ্যমে। ৩০ বছর বয়সি রবীন্দ্র ইন্ডিয়ান নেভাল শিপ (আইএনএস) ডেগায় কর্মরত। ২০২১ সালে ‘মিঙ্গল’ নামের একটি ডেটিং অ্যাপে ৩১ বছর বয়সি মৌনিকারের সঙ্গে পরিচিত হয় তার।

পুলিশ জানায়, তারা প্রায়ই বিশাখাপত্তনমের বিভিন্ন জায়গায় যেমন পার্ক ও সিনেমা হলে দেখা করতেন। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কয়েক সপ্তাহ আগে রবীন্দ্রর স্ত্রী ভিজিয়ানাগরমে তার বাবার বাড়িতে যান। সুযোগ বুঝে রোববার দুপুরে মৌনিকাকে বাসায় ডাকেন রবীন্দ। সন্ধ্যার দিকে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয় এবং অভিযোগ অনুযায়ী রবীন্দ্র শ্বাসরোধ করে মৌনিকাকে হত্যা করেন। এরপর তিনি অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম থেকে একটি ছুরি কিনে দেহ টুকরো করেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি মাথা, হাত-পা শরীর থেকে আলাদা করেন। পা ও কোমরের অংশ একটি ট্রলি ব্যাগে ভরে রাখেন, শরীরের মূল অংশ ফ্রিজে রাখেন এবং মাথা ও হাত অন্য একটি স্থানে নিয়ে পুড়িয়ে ফেলেন। এরপর রবীন্দ্র নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন এবং অপরাধ স্বীকার করেন।

 

অভিযুক্ত দাবি করেছেন, সম্পর্ক চলাকালে মৌনিকা তার কাছ থেকে সাড়ে ৩ লাখ রুপি নিয়েছিলেন এবং প্রায়ই তাদের সম্পর্ক স্ত্রীকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। এই কারণেই তাদের মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া হতো।

 

তদন্তে আরও জানা গেছে, ২০২৪ সালে অন্য একজনকে বিয়ে করার পর থেকেই মৌনিকারের হুমকি ও চাপের কারণে বিরক্ত হয়ে রবীন্দ্র এই হত্যার পরিকল্পনা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ভেতর ও ফ্রিজে দেহের টুকরো অংশ উদ্ধার করে। তবে মৌনিকারের মাথা পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ধারণা করছে, সেটি অন্য কোথাও ফেলে দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ দেহাংশ উদ্ধারে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। এই ঘটনা ২০২২ সালের ১৮ মে দিল্লিতে ঘটে যাওয়া শ্রদ্ধা ওয়াকার হত্যাকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দেয়। ওই ঘটনায় তার সঙ্গী আফতাব আমিন পুনাওয়ালা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দেহ টুকরো করে ফ্রিজে রাখে এবং পরে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

Facebook Comments Box