admin_news ৪ মে ২০২৬ , ১১:৩৮ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
সৈয়দ উসামা বিন শিহাব ঢাকা উত্তর ব্যুরো প্রধান: রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি প্লট-কাম-মাঠ ঘিরে দীর্ঘদিনের দখল ও অনিয়মের অভিযোগ আবারও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর পরিবর্তন ঘটলেও অভিযোগের ধরন প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

সম্প্রতি পল্লবী থানায় নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) যোগদানের পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—বিতর্কিত “মেলা” কার্যক্রম বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে, নাকি এটি আরও বিস্তৃত আকার নেবে?
প্যারিস রোডের উক্ত মাঠটি মূলত শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য নির্ধারিত বলে জানা যায়। তবে অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র জায়গাটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে সেখানে অস্থায়ী ও স্থায়ী কাঠামো গড়ে তুলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
স্থানীয়দের মতে, অতীতে এক গোষ্ঠী এই জায়গা থেকে সুবিধা ভোগ করলেও বর্তমানে নতুন একটি গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তাদের অভিযোগ—প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও দখল ও সুবিধাভোগীদের চক্র একইভাবে সক্রিয় থাকে।
মাঠে পরিচালিত মেলার সঙ্গে “তাহের” নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথাও স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, মেলাটি একটি রাজনৈতিক সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তবে মেলার আড়ালে মাদক বাণিজ্য ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পরে বিষয়টি সমাধানের ইঙ্গিত দেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঠ ও আশপাশের এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, মাদক বেচাকেনা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রকাশ্যে ঘটছে। বিশেষ করে গত রমজান মাসে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রির অভিযোগ বড় পরিসরে ওঠে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা।
প্যারিস রোড ও আশপাশের এলাকায় মাদক পরিস্থিতি অনেকটাই “ওপেন সিক্রেট” হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় প্রশ্ন উঠছে কার্যকারিতা নিয়ে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে এই চক্রটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বিষয়টি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরেও এসেছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে মাঠটি দখলমুক্ত করবে এবং শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করে দেবে। এখন দেখার বিষয়, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেন কিনা, নাকি আগের মতোই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে।











