বিশেষ প্রতিবেদন

বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক: ‘অ্যান্ডিস হান্টাভাইরাস’ নিয়ে সতর্কতা, তবে মহামারির শঙ্কা কম

  admin_news ৮ মে ২০২৬ , ৮:৪২ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

সৈয়দ উসামা বিন শিহাব, ঢাকা উত্তর ব্যুরো প্রধান:

বিশ্বব্যাপী নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে প্রাণঘাতী ‘অ্যান্ডিস হান্টাভাইরাস’-এর সংক্রমণ। ইতোমধ্যে এ ভাইরাসে অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এটি করোনাভাইরাস বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো নয় এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে নতুন বৈশ্বিক মহামারির সূচনা হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি একটি ক্রুজ জাহাজকে কেন্দ্র করে ভাইরাসটির সীমিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসটি সহজে বাতাসে ছড়ায় না এবং সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কম।

ডব্লিউএইচও’র মহামারি ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক ডা. মারিয়া ভ্যান কেরখোভ বলেন, “এটি কোভিড-১৯ নয় এবং এর সংক্রমণ পদ্ধতিও সম্পূর্ণ আলাদা। বহু বছর ধরেই হান্টাভাইরাস বিদ্যমান। বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা একটি সীমিত পরিবেশের প্রাদুর্ভাব মাত্র।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের মল, প্রস্রাব বা লালার মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় শনাক্ত হওয়া ‘অ্যান্ডিস’ স্ট্রেইন মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে সক্ষম হলেও এর জন্য দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ প্রয়োজন হয়। ফলে এটি কোভিড-১৯ এর মতো দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম।

ডব্লিউএইচও’র জরুরি স্বাস্থ্য কর্মসূচির অ্যালার্ট অ্যান্ড রেসপন্স সমন্বয়ক ডা. আবদিরাহমান মাহমুদ জানান, অতীতে আর্জেন্টিনায় একই ধরনের সীমিত প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল। সেখানে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর বহু মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিও অনেকটা একই ধরনের।

তিনি বলেন, “সঠিকভাবে কন্টাক্ট ট্রেসিং, আইসোলেশন ও জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা অনুসরণ করা গেলে সংক্রমণের শৃঙ্খল দ্রুত ভেঙে দেওয়া সম্ভব। এটি বড় আকারের মহামারিতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, হান্টাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা ও ফুসফুসজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে রোগটি প্রাণঘাতীও হতে পারে। তবে সংক্রমণ ছড়ানোর ধরন সীমিত হওয়ায় আতঙ্ক নয়, সচেতনতাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক ডা. টেড্রস আধানম গেব্রেয়েসুস জানিয়েছেন, ভাইরাসটির লক্ষণ প্রকাশ পেতে সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এজন্য আগামী দিনগুলোতে আরও কিছু সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও সংস্থাটি বর্তমান পরিস্থিতিকে “নিম্ন জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি” হিসেবে মূল্যায়ন করছে।

বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর নতুন কোনো ভাইরাসের খবর স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুজব বা আতঙ্ক নয়—তথ্যভিত্তিক সতর্কতাই এখন সবচেয়ে প্রয়োজন।

Facebook Comments Box