বিশেষ প্রতিবেদন

খুলনা শিশু হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়, সেবা দিতে হিমশিম চিকিৎসক

  admin_news ১৫ এপ্রিল ২০২৬ , ৬:৩৭ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

**নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা** | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

খুলনায় ঋতু পরিবর্তনের প্রভাবে শিশুদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মৌসুমী রোগের প্রকোপ। জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন শত শত শিশু ভিড় করছে খুলনা শিশু হাসপাতালে। গত তিন মাস ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে **৩-৪ গুণ বেশি** রোগীর চাপে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৭৫ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে একটি বেডও খালি নেই। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে **৬০০ থেকে ৭০০** শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইনডোর এবং আউটডোর—উভয় বিভাগেই থাকছে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। অনেক অভিভাবক দূর-দূরান্ত থেকে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।

**বাড়ছে হাম ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ**
চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রোগী আসছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া নিয়ে। পাশাপাশি ছোঁয়াচে রোগ **হামের** প্রাদুর্ভাবও দেখা দিয়েছে। তবে হামের রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক **ডা. প্রদীপ দেবনাথ** বলেন:
“মৌসুমী রোগের কারণে রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে হাম ছোঁয়াচে হওয়ায় আমরা তাদের ভর্তি না করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বা অন্যত্র রেফার করছি।”
>
### **অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা**
সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনার দিঘলিয়া, মিস্ত্রিপাড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আসা অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। সাড়ে তিন বছরের আদিবার অভিভাবক জানান, শরীরে রেশ ওঠায় আশঙ্কায় তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন। অন্যদিকে, নাতনির ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে আসা তোফাজ্জল হোসেন জানান, দুই দিন ভর্তির পর তার নাতনির অবস্থা এখন উন্নতির দিকে।

**চিকিৎসকদের পরামর্শ**
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকরা অভিভাবকদের বিশেষ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:
* শিশুদের সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
* নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করা।
* অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম থেকে শিশুকে বাঁচিয়ে রাখা।
* পুষ্টিকর খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে রাখা।
* যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখলেই দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত সাধ্যের মধ্যেও তারা প্রতিটি শিশুকে সুচিকিৎসা প্রদানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

Facebook Comments Box