admin_news ৮ এপ্রিল ২০২৬ , ৬:০২ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
ঐতিহ্যবাহী বড়কুঠি এলাকায় ‘প্রথম রাজশাহী লিটারারি ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’ চলাকালে এক নারী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনরত এক সংবাদকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ফুঁসে উঠেছে রাজশাহীর সচেতন নাগরিকসমাজ, যারা একে কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয় বরং সংগঠিত সন্ত্রাস ও বিচারব্যবস্থার প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এক যৌথ বিবৃতিতে লেখক ও অধিকারকর্মী মো. শামীউল আলীম শাওন এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মো. রবিন শেখসহ নাগরিক প্রতিনিধিরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের প্রতি কঠোর আল্টিমেটাম জারি করেন। তারা বলেন, জনসমক্ষে একজন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি প্রদান এবং ঘটনার তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করতে সাংবাদিকের ওপর হামলা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এটি রাষ্ট্রের আইনের শাসন, নাগরিক মর্যাদা এবং মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর সুপরিকল্পিত আঘাত।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী থানায় প্রতিকার চাইতে গেলে তাকে সহায়তা না দিয়ে উল্টো রাজনৈতিক প্রভাবে পুনরায় জেরা ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনাকে তারা ‘সেকেন্ডারি ভিক্টিমাইজেশন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিচারপ্রার্থী একজন ভুক্তভোগী যদি থানায় গিয়ে আবারও লাঞ্ছিত হন, তবে সেটি সরাসরি বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের শামিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন আচরণ আইনের শাসনের ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
একই সঙ্গে বড়কুঠি ও পদ্মাপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় তথাকথিত ‘সাঁকো সিন্ডিকেট’ এবং অবৈধ পার্কিং কেন্দ্রিক চাঁদাবাজির বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নাগরিক প্রতিনিধিরা দাবি করেন, অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান শান্ত ও তার সহযোগীরা এই সংগঠিত অপরাধচক্রেরই অংশ, যা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় পরিচালিত হয়ে আসছে এবং জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারা আরও বলেন, এ ধরনের অপরাধ বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ প্রেক্ষাপটে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার, হামলার বিচার, নষ্ট হওয়া ভিডিও তথ্য পুনরুদ্ধার, বড়কুঠি এলাকাকে চাঁদাবাজমুক্ত নিরাপদ পাবলিক স্পেস হিসেবে ঘোষণা, সংশ্লিষ্ট থানার দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে রাজশাহীর সচেতন নাগরিকসমাজ, শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।











