অভিযোগ

কেমন চলছে কুয়েট! থমকে গেছে পরিস্থিতি!

  admin_news ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৬:৫০ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাছুদ বনাম বর্তমান ভিসি ড. মাকসুদ হেলালী — একটি বাস্তব চিত্র

১️. হল ব্যবস্থাপনা ও সিট বণ্টন:

সাবেক ভিসি ড. মোহাম্মদ মাছুদ অতি স্বল্প সময়ে মেধার ভিত্তিতে হলে সিট বণ্টন, ডাইনিংয়ের খাবারের মান উন্নয়ন এবং হলের পরিবেশ সুন্দর করার কার্যকর উদ্যোগ নেন। বর্তমান ভিসি ড. হেলালী অধিকাংশ হলে প্রভোস্ট পরিবর্তন করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসরদের নিয়োগ দেন। ফলে হলগুলো অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে এবং প্রতিবাদ করলে সহকারী প্রভোস্টদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

২️. শিক্ষা সফর, থিসিস ও TA/RA সম্মানী:

২০২৫ সালের শুরুতেই ছাত্রদের শিক্ষা সফর ও থিসিসে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অবদান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের TA/RA সম্মানী বৃদ্ধির পরিকল্পনা ছিল সাবেক ভিসির। বর্তমান ভিসি দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের ভিসির আমলে পাশ হওয়া কোনো সুযোগ-সুবিধাই বাস্তবায়ন করেননি, ফলে ছাত্র–শিক্ষক সবাই বঞ্চিত হচ্ছেন।

৩️. রিসার্চ ও পাবলিকেশন ইনসেনটিভ:

শিক্ষকদের রিসার্চে উৎসাহিত করতে পাবলিকেশনের ওপর ইনসেনটিভ প্রদানের নিয়ম পাশ করেছিলেন ড. মাছুদ স্যার। কিন্তু বর্তমান ভিসি ড. হেলালী সেটিও কার্যকর হতে দেননি।

৪️. শিক্ষক সংকট ও নিয়োগ:

শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষক সংকট বিবেচনায় নিয়ে অতি স্বল্প সময়ে মেধার ভিত্তিতে সকল বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেন সাবেক ভিসি। বর্তমান ভিসি শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির সব প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়ে KUET-কে কার্যত অকার্যকর করে তুলছেন।

৫️. আইটি পার্ক ও KUET-এর স্বার্থ:

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত আইটি পার্ককে KUET-এর নিজস্ব ইনস্টিটিউট হিসেবে ফিরিয়ে আনার সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন প্রফেসর ড. আশরাফুল গনি ভূঁইয়া ও ড. মোহাম্মদ মাছুদ। বর্তমান ভিসির সময় স্বাক্ষর সম্পন্ন হলেও এখন IICT-কে না দিয়ে CSE ডিপার্টমেন্টে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে, যার ফলে বিভাগগুলোর মধ্যে অযথা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে।

৬️. দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা:

অযোগ্যতা ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক–কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ ছিল সাবেক ভিসির। বর্তমান ভিসি উল্টো আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দোসর, জামাত ও পরিচিত দুর্নীতিবাজদের পুনর্বাসন করছেন।

৭️. নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের বিচার:

নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। বর্তমানে সেই সব বিচার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

৮️. দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের পারিশ্রমিক:

সাবেক ভিসি দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির উদ্যোগ নেন। বর্তমান ভিসির সময় দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪০০ টাকা করা হয়েছে।

৯️. Academic system ও আইন লঙ্ঘন:

Academic system পরিবর্তনের জন্য কমিটি গঠন ও কার্যক্রম শুরু করেছিলেন সাবেক ভিসি। বর্তমান ভিসি সংসদে পাশ হওয়া ২০০৩ সালের আইন ভঙ্গ করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যার ফলে KUET-এর ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আসছে।

১০️. ক্যাম্পাস নিরাপত্তা:

ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ/আনসার ক্যাম্প স্থাপনের সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন সাবেক ভিসি। বর্তমান ভিসি এ বিষয়ে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেননি।

১১️. উন্নয়ন প্রকল্প ও নতুন হল:

উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ১২০০ সিটের হল নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন সাবেক ভিসি। বর্তমানে প্রায় সব উন্নয়ন কাজ বন্ধ। বর্তমান ভিসি বিল ছাড় দিচ্ছেন না এবং কাজের অগ্রগতিতেও স্পষ্ট অনীহা দেখাচ্ছেন।

KUETbulletin থেকে জানানো হয়।:

Facebook Comments Box