অপরাধ

মিরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য: ‘সম্রাট বাহিনী’ ঘিরে চরম আতঙ্ক, প্রশ্নে প্রশাসনের কার্যকারিতা

  admin_news ২ মে ২০২৬ , ১২:৫২ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

সৈয়দ উসামা বিন শিহাব, ঢাকা উত্তর ব্যুরো প্রধান: রাজধানীর মিরপুর এলাকার ১২ নম্বর সেকশনের ঝিলপাড়, আণবিক ও দুয়ারীপাড়া এলাকায় নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এক কিশোর গ্যাং, যাদের স্থানীয়ভাবে ডাকা হচ্ছে ‘সম্রাট বাহিনী’ নামে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই গ্যাংয়ের ভয়ে তারা প্রতিদিনই আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘সম্রাট’ নামের এক কিশোরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই গ্যাংটি মাদক বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আণবিক এলাকা ধীরে ধীরে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অনেকেই নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। তবে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কয়েকজন বলেন, “আমরা শান্তিতে থাকতে চাই, কিন্তু এই গ্যাংয়ের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে গেছে।”

প্রতিবেদন তৈরির সময় দেখা যায়, ক্যামেরা বা অপরিচিত কাউকে দেখলেই অনেকেই সরে যান। আবার কেউ কেউ সাহস করে জানান, গ্যাংটির সদস্যরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে এবং নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। এমনকি নজরদারির চেষ্টা করা হলে তারা দ্রুত গা ঢাকা দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, জাতীয় পর্যায়ে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, বারবার অভিযোগ ওঠার পরও দৃশ্যমান কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কথিত গ্যাং লিডার ‘সম্রাট’ অতীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও বর্তমানে আবার সক্রিয় হয়ে উঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে করে জনমনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এখন বড় প্রশ্নগুলো হলো—
এই কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে কারা রয়েছে?
কোনো প্রভাবশালী মহল কি তাদের ব্যবহার করছে?
গ্রেপ্তারের পরও কীভাবে তারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে?
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নজরদারি কতটা কার্যকর?

এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে এই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা হোক এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো মিরপুরবাসী।

Facebook Comments Box