টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে তারেক রহমান–এর হাত থেকে কৃষক কার্ড পাওয়া কবির হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কের পর জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কবির হোসেন প্রকৃত অর্থেই একজন প্রান্তিক কৃষক এবং প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী তিনি কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে যে বিত্তশালী বা অযোগ্য কৃষক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা যাচাইয়ে সত্য প্রমাণিত হয়নি।

ঘটনাটি ঘটে ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কৃষক কার্ড বিতরণ ও প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, যেখানে তিনি আরও ১৫ জন কৃষকের সঙ্গে কার্ড গ্রহণ করেন এবং সেখানে বক্তব্যও রাখেন। পরবর্তীতে তাঁর কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে বিভ্রান্তি ও সমালোচনা তৈরি হয়।

তবে পরবর্তীতে আরও একটি পৃথক অভিযোগে তাঁর বিলাসবহুল পোশাক ও জীবনযাপনের যেসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়, সেগুলো নিয়েও যাচাই করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ছবিগুলো বাস্তব নয়; কবির হোসেন নিজেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করে তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করেছিলেন, যা পরবর্তীতে বাস্তব ছবি হিসেবে ভুলভাবে প্রচার করা হয়।

এ বিষয়ে কবির হোসেন জানান, তিনি সীমিত জমিতে কৃষিকাজ করেন এবং বর্গা চাষসহ কৃষি-সম্পর্কিত কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি দাবি করেন, সামাজিক মাধ্যমে তাঁর ছবি ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এআই-জেনারেটেড কনটেন্টসহ ভুল তথ্য ছড়িয়ে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও নিশ্চিত করেছেন, কবির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে ছড়ানো অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।

সুতরাং, কবির হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিতর্ক এবং তাঁর নামে প্রচারিত অযোগ্য কৃষক ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের দাবিগুলো তদন্তে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}