সৈয়দ উসামা বিন শিহাব, ঢাকা উত্তর ব্যুরো প্রধান :- রাজধানীর মিরপুর ১১ এলাকায় অবস্থিত রাব্বানী রেস্টুরেন্ট-এর সামনে দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্ট গর্তে ময়লা পানির স্থায়ী জলাবদ্ধতার ফলে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জমে থাকা দূষিত পানি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং মশার অস্বাভাবিক বংশবিস্তার ঘটছে, যা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ অভিযানে রেস্টুরেন্টটির অভ্যন্তরে চরম অস্বাস্থ্যকর ও নীতিবহির্ভূত কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রান্নাঘরে মেয়াদোত্তীর্ণ (‘ডেট ফেল’) খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সুস্পষ্ট আলামত মিলেছে, যা প্রচলিত খাদ্য নিরাপত্তা আইন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলে এমন অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য পরিবেশন, অস্বাস্থ্যকর কিচেন ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিষ্ঠানের সামনের নোংরা পানির স্থায়ী জলাবদ্ধতা—এই তিনটি গুরুতর অনিয়মের ভিত্তিতেই তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায়, উল্লিখিত অপরাধসমূহে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় রাব্বানী রেস্টুরেন্টের মালিককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটলে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সচেতন মহল মনে করছে—রাজধানীতে বারবার এমন অনিয়ম প্রকাশ পেলেও তা টেকসইভাবে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। তারা নিয়মিত নজরদারি জোরদার, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।