কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও ডিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে ২১ জনকে আটক করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার আমলা ইউনিয়নের বুরাপাড়া গ্রামে শিশুদের ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি।

আহতদের অবস্থা সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন আক্তার আলী নামের এক বিএনপি কর্মী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিপক্ষের লোকজন হাতুড়ি ও রামদা দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী এবং সর্বশেষ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর বিএনপি পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হলে শুক্রবার সকালে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, জামায়াত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রতিপক্ষের লোকজনকে বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিকেলের দিকে জেলা ডিবি পুলিশ ও মিরপুর থানা পুলিশ ওই গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২১ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রামদা ও হাতুড়িসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থক বলে জানা গেছে।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}