নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে সাম্প্রতিক যান্ত্রিক গোলযোগের জন্য তারের ত্রুটি ও কানেক্টর লুজ হওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কাজটির কমিশনিংয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ‘কমিউনিকেশনস টেকনোলজি লিমিটেড’। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ানোর ফলে কানেক্টর লুজ হয়ে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান প্রতিষ্ঠানের সিইও জাহিদুর রহিম জোয়ারদার।

### ‘টেবিল চাপড়ানোয় কানেক্টর লুজ হয়েছে’
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জাহিদুর রহিম বলেন, “আমরা বারবার পরীক্ষা করে দেখেছি সিস্টেম ঠিক ছিল। কিন্তু কানেক্টরগুলোর ক্লিপ ভাঙা থাকলে বা লুজ হলে সমস্যা হয়। সেশন চলাকালে যখন অনেক টেবিল চাপড়ানো হয়েছে, তখন সেই কম্পনে কানেক্টরগুলো লুজ হয়ে গেছে। এই লুজ কানেকশন থেকেই মূলত সমস্যার সূত্রপাত।”
তিনি আরও যোগ করেন, কাজ করতে গিয়ে দেখা গেছে মূল সমস্যাটি ছিল তারের (Cable)। সেখানে নেটওয়ার্কজনিত ত্রুটিও ছিল। পরবর্তীতে পুরাতন তার পরিবর্তন করে নতুন নেটওয়ার্ক ক্যাবল লাগানোর পর সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং বর্তমানে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে।

সাউন্ড সিস্টেমের কাজ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের বিষয়ে জাহিদুর রহিম জানান, ১৯৯৪ সাল থেকে তার কোম্পানি সংসদের সাউন্ড সিস্টেমের সাথে জড়িত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত সাউন্ড সিস্টেম সংস্কারের জন্য তারাই ৪ কোটি টাকার ব্যয় প্রাক্কলন (Estimate) তৈরি করে দিয়েছিল।
তবে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মূল ইনস্টলেশনের কাজ পায় ‘আমানত এন্টারপ্রাইজ’ নামে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি দাবি করেন, আমানত এন্টারপ্রাইজের এই ধরনের কাজে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার অভাব ছিল। ফলে কাজটির শেষ পর্যায়ে কেবল সফটওয়্যার ইনস্টলেশন এবং কমিশনিংয়ের দায়িত্ব পালন করে তার প্রতিষ্ঠান ‘কমিউনিকেশনস টেকনোলজি লিমিটেড’।

সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সাউন্ড সিস্টেমে কেন ত্রুটি দেখা দিল এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখছে দুদক। এরই অংশ হিসেবে আজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}