নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে নির্মিত একটি আয়রন ব্রিজের ঢালাই কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। অনিয়মের এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বারপাইকা গ্রামের দুশমী-করিমবাজার খালের ওপর নির্মাণাধীন ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৫ ফুট প্রস্থের ব্রিজটির ঢালাই কাজ সম্পন্ন হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রিজটিতে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে, ঢালাইয়ের মূল কাঠামোতে রড ব্যবহারের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে। ৫ ইঞ্চি ঢালাই হওয়ার কথা থাকলেও তা মাত্র ৩ ইঞ্চি দেওয়া হয়েছে। সিমেন্টের মিশ্রণে ব্যাপক অনিয়ম ও কার্পণ্য করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা অভিযোগ করেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা ব্রিজটি নির্মাণের কাজ তদারকি করছেন। তিনি শুধু নির্মাণেই অনিয়ম করেননি, বরং ব্রিজ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকাবাসীর কাছ থেকে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশল অফিসের কোনো প্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে তড়িঘড়ি করে এই দায়সারা কাজ শেষ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও বাঁশ ব্যবহারের বিষয়ে বলেন:
“ব্রিজের বাইরের কিছু অংশে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে, যা এলাকাবাসীর তত্ত্বাবধানেই হয়েছে।”
রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার জানান, ব্রিজটির জন্য দুই দফায় মোট আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ঢালাইয়ে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী জানান, তাদের না জানিয়েই তড়িঘড়ি করে ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”