সৈয়দ উসামা বিন শিহাব, ঢাকা উত্তর ব্যুরো প্রধান:- মিরপুর কলেজের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক শিক্ষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, আর্থিক কমিটি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়োগ–বদলি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক মহল ও স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, মহাসিন–শবনম ও হাফিজ গং নামে পরিচিত একটি প্রভাবশালী শিক্ষকচক্র দীর্ঘ সময় ধরে কলেজ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোর ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে আসছে।
সূত্রমতে, ২০১২ সালে তৎকালীন প্রিন্সিপাল গোলাম ওয়াদুদের প্রশাসনিক সময়কাল থেকে এই গোষ্ঠীর উত্থান শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় দীর্ঘদিন বিভাগীয় চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদে একই ব্যক্তিদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়—যা প্রশাসনিক ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করে বলে অভিযোগ করেন একাধিক শিক্ষক।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কলেজের বিবিএ বিভাগ ও পরীক্ষা সংক্রান্ত কমিটির নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন এককভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে আর্থিক স্বচ্ছতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পাশাপাশি, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক পদায়নেও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।
পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাহবুবুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পরও ওই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বহিরাগত রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের কারণে কলেজের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ আরও জটিল হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয়—এমন ঘটনাও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ওই সময় শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের পেছনে সংগঠিত প্রভাব ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।
এছাড়া গভার্নিং বডির সভাপতি নির্বাচন, আর্থিক কমিটি গঠন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অভিযোগও উঠেছে একই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কলেজের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের এই প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার প্রভাবমুক্ত না হলে কলেজের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন।
Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}