মিরপুরের ডা. এম আর খান শিশু হাসপাতালে পিআইসিইউতে শুয়ে থাকা ছোট্ট আকিরা তার বাবাকে দেখে শেষবারের মতো হাত বাড়িয়ে বলেছিল, **”বাবা আমাকে বুকে নাও, পানি দাও।”**

কিন্তু চিকিৎসকের নিষেধ আর সংক্রমণের আশঙ্কায় বাবা আল আমিন তাঁর কলিজার টুকরাকে শেষবার বুকেও টেনে নিতে পারেননি, এক ফোঁটা পানিও মুখে দিতে পারেননি। ২ এপ্রিল রাতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় আকিরা পাড়ি জমায় না ফেরার দেশে।
অসুস্থতার শুরু ৮ মার্চ নিউমোনিয়া দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে হাম, শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহ এবং রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি  করে প্রায় ২৭ দিন ধরে তিনটি ভিন্ন হাসপাতালে (এম আর খান, ডেলটা ও গ্লোবাল স্পেশালাইজড) যুদ্ধ করেছে শিশুটি।

স্মৃতি হিসেবে রয়ে গেল বাবার কিনে দেওয়া হলুদ স্কুলব্যাগ, প্লাস্টিকের প্যাকেটে থাকা ঈদের নতুন জামা আর হাসপাতালে বসে বায়না করা খেলনাগুলো এখন শুধুই নির্বাক সাক্ষী।

বাবার আক্ষেপ সব টিকা দেওয়া হলেও হামের টিকা (এমআর ভ্যাকসিন) দেওয়া হয়নি। আল আমিনের আক্ষেপ, এই একটি ভুল হয়তো তাঁর কোল খালি করে দিল।
বাবার শেষ বার্তা, আল আমিন চান না আর কোনো বাবার বুক এভাবে খালি হোক। তাঁর এই করুণ অভিজ্ঞতা থেকে সমাজ ও প্রশাসনের প্রতি দুটি বিশেষ অতনুরোধ ফুটে উঠেছে,

কোনো মা-বাবা যেন টিকার বিষয়ে গাফিলতি না করেন। একটি টিকাই হতে পারে জীবন ও মৃত্যুর মধ্যকার দেয়াল।

প্রতিটি হাসপাতালে যেন পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং পিআইসিইউ সুবিধা থাকে, যাতে কোনো শিশুকে চিকিৎসার অভাবে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে না হয়।

“চেষ্টার কোনো কমতি করিনি… পৃথিবী একদিকে আর আমার মেয়েটা ছিল আরেক দিকে।”

আকিরার আত্মার শান্তি কামনা করছি। এই শোক সহ্য করার শক্তি পরিবারটির হোক।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}