গোলাম কিবরিয়া

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার চার বছর পার হলেও এখনো চালু হয়নি ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (আইবাস)| ফলে সরকারি বরাদ্দ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা ˆতৈরি হয়| ˆতৈরি হয়েছে শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষা উপকরণসহ নানা সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি|
জানা গেছে, ২০২৩ সালে বাউফল সরকারী নার্সিং ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু হয় | শুরুতে পটুয়াখালী নার্সিং কলেজ থেকে ডেপুটেশনে একজন অধ্যক্ষ ও একজন শিক্ষককে সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়| বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে তিনটি ব্যাচের শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও মাত্র একজন শিক্ষকের উপর নির্ভর করেই চালাতে হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম | অতিথি শিক্ষক দিয়ে বেশ কিছুদিন প্রতিষ্ঠানটি সচল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগম| অতিথি শিক্ষকই একমাত্র ভরসা| কিন্তু খন্ডকালীন ওই সকল শিক্ষকদের কোন ধরনের সম্মানী প্রদান করতে পারছেন না অধ্যক্ষ| ফলে অতিথিরাও আগ্রহ হাড়াচ্ছেন| প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ইনস্টিটিউটটিতে ৯ থেকে ১২টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে | এছাড়া পরিচ্ছন্নতা কর্মী, দারোয়ান, সিকিউরিটি গার্ড, আয়া ও বাবুর্চিসহ চতুর্থ শ্রেণির সকল পদ দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য পড়ে আছে|
এদিকে অবকাঠামোগত দিক থেকেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা | একাডেমিক ভবনে কোনো বাথরুম নেই| বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে এবং পর্যাপ্ত ক্লাসরুম না থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে| এছারা শিক্ষার্থীদের জন্য ৭টি ল্যাব থাকার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটি ল্যাবও স্থাপন করা হয়নি| পাশাপাশি সিলেবাস ও কারিকুলাম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় একাডেমিক্যাল বইপত্র ফ্রি পাওয়ার কথা সকল শিক্ষার্থীর কিন্তু কোন ধরনের বই পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা|
এছাড়া বর্তমানে তিনটি ব্যাচ চলমান থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সরকারি বরাদ্দ পায়নি | সকল শিক্ষার্থীদের ১৮-২৫টাকা শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার কথা | আইবাস না থাকার কারণে সকল শিক্ষাবৃত্তি বঞ্চিত রয়েছেন শিক্ষার্থীরা| অপরদিকে বিএনএমসি কৃর্তৃক শিক্ষার্থীদের চুড়ান্ত পরিক্ষা ৪০কিলোমিটার দুরে জেলা সদর পটুয়াখালী নাসিং ইনস্টিটিউটে গিয়ে অংশগ্রহণ করতে হয়| যা অত্যান্ত অমানবিক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয়বহুল|
ডিপ্লমা ইন নাসিং সাইন্স এন্ড মিডওয়েফারী প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার বলেন, লাইব্রেরীতে কোন ধরনের বই নেই | বই সংগ্রহ করতে নানা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে |
২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাইমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের ইনস্টিটিউটে ২/৩ জন বাদে সকলেই নারী শিক্ষার্থী কিন্তু অনেক সমস্যা আমদের এখানে | বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদেরকে পটুয়াখালী জেলা সদর নাসিং ইনস্টিটিউটে গিয়ে সকল পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় | এটি আমাদের জন্য অনেক কষ্টকর বিষয় এবং ব্যায়বহুল | প্রতিদিন পরিক্ষা শেষ করে বাউফল চলে আসতে হয় | অনেকদিন পরিক্ষা থাকে অনেক টাকা ব্যায় হয় যাতায়াত করতে |
৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী তানভির আহমেদ বলেন, ‘এখানে ছেলেদের আবাসন নেই | বাহিরে থাকতে হয় যা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় বেড়ে যায় | এছারা এ্যাকাডেমিক সমস্যার তো কোন শেষ নাই |
অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগম বলেন, “শুরুর সময় সামান্য ফার্নিচার দেয়া হয়েছিল | এরপর আর ১টাকারও কোন বরাদ্ধ পাইনি সম্পূর্ণ নিজের বেতনের টাকা খরচ করে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রেখেছি | সকল শিক্ষার্থীদের মাতৃছায়ায় ঢেকে রেখেছি | একজন দাড়োয়ান পর্যন্ত নেই মাঝে মাঝে নিজে গিয়ে গেইট খুলতে হয়। শিক্ষক সংকট থাকলেও অতিথি শিক্ষক দিয়ে কোনোভাবে পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে দ্রুত আইবাস চালু ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
এবিষয়ে নাসিং এন্ড মিডওয়েফারি অধিদপ্তরের অর্থ ও বাজেট বিভাগের উপ-পরিচালক শাহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘এবিষয় নিয়ে সারা বাংলাদেশব্যাপী সমস্যায় আছি।বিগত সরকার কোন কাজ করেনি নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে আশা করি সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।
এ অবস্থায় দ্রুত আইবাস চালু, শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}