জাতীয় রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) ২০২৬ বিলটি পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আইনিভাবে বহাল রাখা হলো। বিলের প্রেক্ষাপট ও আইনি ভিত্তি
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৫টি সংশোধন করে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’। আজ বিলটি পাসের ফলে সেই অধ্যাদেশটি এখন একটি স্থায়ী আইনে পরিণত হলো।
মূল ধারা সংশোধন  ২০০৯ সালের মূল সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ এবং ২০ ধারা সংশোধন করে গত বছর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের ধারাবাহিকতায় এই একই আইনের অধীনে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ বিভিন্ন ছাত্র-জনতার দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কার্যক্রমসমূহ
আইন ও সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে পারবে না:
রাজনৈতিক কর্মসূচি : মিছিল, সভা বা জনসমাবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
প্রাতিষ্ঠানিক কার্যালয় :দলটির সকল কার্যালয় সিলগালা ও বন্ধ থাকবে।
আর্থিক লেনদেন : দলের নামীয় সকল ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকবে।
প্রচার-প্রচারণা : পোস্টার, ব্যানার বা কোনো ধরনের প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করা যাবে না।
যোগাযোগ ও মিডিয়া: কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বা সংবাদ সম্মেলন করা যাবে না। এছাড়া মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের কার্যক্রম প্রচার নিষিদ্ধ।

সংসদীয় এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পথ আপাতত আইনিভাবে রুদ্ধ হয়ে গেল। অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করেই এই রাজনৈতিক দলটির চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}