যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধের ৩৫তম দিনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক নতুন এবং বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরান এক ভয়াবহ ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

কুয়েত কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল দেশটির জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত বিদ্যুৎ ও লোনা পানি শোধনাগারগুলো:
শুক্রবার দ্বিপ্রহরের ঠিক আগে একটি প্রধান শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন।
মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে শুক্রবার ভোরে কুয়েতের অন্যতম বৃহৎ এই তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানো হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘কুনা’ জানিয়েছে, হামলায় শোধনাগারের বেশ কয়েকটি ইউনিটে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ভাগ্যক্রমে  এই ঘটনায় কোনো কর্মী হতাহত হননি। এছাড়া তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার গুজবকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে পরিবেশ অধিদপ্তর বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করছে।
কুয়েত কেন লক্ষ্যবস্তু?
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কুয়েত এই সংঘাতের ফ্রন্টলাইনে চলে এসেছে।
কুয়েত উপকূল থেকে ইরানের দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার, যা দেশটিকে ইরানি ড্রোন ও মিসাইলের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

উপসাগরীয়  দেশগুলো সুপেয় পানির জন্য সম্পূর্ণভাবে এসব শোধনাগারের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এসব স্থাপনায় হামলা জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এর আগে গত ৩০ মার্চ অনুরূপ এক হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, এ নিয়ে মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারটি তৃতীয়বারের মতো আক্রান্ত হলো।

বরাবরের মতোই ইরান এই হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তেহরানের দাবি, এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েল দায়ী। তবে দিনভর কুয়েতের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের শব্দ এবং সাইরেন মধ্যপ্রাচ্যে এক বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পানি ও জ্বালানি শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো যুদ্ধের একটি ভয়াবহ কৌশল, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তোলে। কুয়েতের ওপর এই অব্যাহত হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}