সৈয়দ উসামা বিন শিহাব, ঢাকা উত্তর ব্যুরো প্রধান:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “খবর বক্স” নামে পরিচালিত একটি ফেসবুক আইডিকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের বিতর্ক, অভিযোগ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, আইডিটি ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিকভাবে পরিচিত মানুষদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের পর থেকে আইডিটি আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ব্যক্তির নাম, ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে একের পর এক পোস্ট প্রকাশ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব পোস্টের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ বা সত্যতা যাচাই পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, যাচাইবিহীন তথ্য প্রচারের কারণে অনেকেই সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। কেউ কেউ মানসিক চাপ ও সম্মানহানির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা আক্রোশ চরিতার্থ করার প্রবণতা বর্তমানে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
সচেতন মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে মানুষের মত প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও কিছু অসাধু চক্র এই প্ল্যাটফর্মকে অপব্যবহার করছে। গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সমাজে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, “খবর বক্স” নামের আইডি থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন এবং রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্টদের নিয়েও বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট করা হয়েছে। তবে আইডিটির প্রকৃত পরিচালনাকারী কে বা কারা, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।
এদিকে ভুক্তভোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, অনলাইনে প্রকাশিত যেকোনো তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা বা শেয়ার করা উচিত নয়। কারণ একটি ভুল বা মিথ্যা তথ্য একজন মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভুয়া আইডির আড়ালে থেকে অপপ্রচার চালানো ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।