সৈয়দ উসামা বিন শিহাব | ঢাকা উত্তর ব্যুরো প্রধান: রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীকে জড়িয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন ও প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাজানো অভিযোগ ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রবিউল করিম বাবু, সাজেদুল আলম টুটুল ও রওশন হাসানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগের সূত্র হিসেবে সামনে আনা হয় ‘মিসেস বিথী’ নামের এক নারীকে।

তবে ঘটনাটির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। মিরপুরের শিয়ালবাড়ি এলাকায় অবস্থিত “Poster K Tex Enterprise” নামের একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিতে ‘মিসেস বিথী’ নামে কোনো মালিক, অংশীদার কিংবা শেয়ারহোল্ডারের অস্তিত্ব নেই। এতে অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই তৈরি হয়েছে গুরুতর প্রশ্ন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিথী নামের ওই নারী দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। আর তার ছেলে আইয়ুব মাতবর নীরব পূর্বে রূপনগর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে গার্মেন্টস ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতেন নীরব। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন পক্ষকে চাপে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

কয়েক মাস আগে শিয়ালবাড়ি এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনায়ও নতুন করে আলোচনায় আসে ঝুট ব্যবসা ও রাস্তা দখলের বিষয়টি। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার ওপর ঝুটের বস্তা ও মালামাল ফেলে রাখার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হয়, ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বিলম্ব হয় এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

পরবর্তীতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনস্বার্থে রাস্তা ফাঁকা রাখার আহ্বান জানালে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, সেই ঘটনার জের ধরেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এখন অপপ্রচারের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত নেতাকর্মীরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।”

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা বন্ধে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}