•  উসামা বিন শিহাব | ঢাকা উত্তর ব্যুরো প্রধান

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতা এবং দলের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে ভার্চুয়াল বৈঠকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন দলটির সভাপতি Sheikh Hasina। মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে তিনি নেতাকর্মীদের “মানসিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি” নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এবার সবাইকে দেশে ফিরে মাঠে নামতে হবে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। এছাড়াও ওয়ার্কিং কমিটির বাইরে থাকা কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাও উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।

বৈঠকে বিভিন্ন অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা নিজ নিজ এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তাঁরা দাবি করেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন ছিল “জনগণের প্রত্যাশাবহির্ভূত ও প্রশ্নবিদ্ধ”। এ সময় শেখ হাসিনা দেশি-বিদেশি কিছু পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনের সময় এক ধরনের বক্তব্য দিলেও পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মহলে ভিন্নধর্মী প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে।

সভায় তিনি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, কেন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে—তা তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। একইসঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে সাংগঠনিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার নির্দেশও দেন তিনি।

আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরেই ভোটের অংশগ্রহণ ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। দলটির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় দাবি করা হয়েছে, ঘোষিত ভোটের হার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে জানা গেছে।

আলোচনার এক পর্যায়ে দলের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উত্থাপন করেন কয়েকজন নেতা। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এমন কোনো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই, যার ভিত্তিতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। একইসঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর থাকা সীমাবদ্ধতা প্রত্যাহারের পথে এগোবে। অন্যথায় দল নিজেদের কৌশল ও কর্মসূচি নির্ধারণ করবে বলেও ইঙ্গিত দেন।

বৈঠকে শেখ হাসিনার বক্তব্যে আত্মবিশ্বাসের ছাপ ছিল বলে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়। বিশেষ করে নেতাকর্মীদের দেশে ফিরে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, সামনের দিনগুলোতে দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক Obaidul Quader উপস্থিত ছিলেন না। তিনি অসুস্থ রয়েছেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন Jahangir Kabir Nanak, Mofazzal Hossain Chowdhury Maya, Bahauddin Nasim, Mirza Azam, Mahibul Hasan Chowdhury Nowfelসহ আরও অনেকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বৈঠক এবং শেখ হাসিনার বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিচ্ছে। মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সক্রিয় প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই বিষয়টিকে দেখছেন অনেকে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}