•  উসামা বিন শিহাব, ঢাকা উত্তর ব্যুরো প্রধান:

দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ জোরদার, তরুণ সমাজকে ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সিগারেটের মূল্য কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি সিগারেটের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য ১৭ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব তুলে ধরে National Heart Foundation এবং United Forum Against Tobacco।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে বিদ্যমান চার স্তরের সিগারেট মূল্য কাঠামো—প্রিমিয়াম, উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন—পুনর্নির্ধারণ করে নতুন কর ও মূল্যনীতি বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রিমিয়াম শ্রেণির ১০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের খুচরা মূল্য ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ৬৭ শতাংশ আবগারি শুল্ক এবং প্রতি প্যাকেটে নির্দিষ্ট ৪ টাকা সম্পূরক কর যোগ হলে প্রতিটি সিগারেটের খুচরা মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৩৫ টাকা।

উচ্চ মূল্যস্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রেও মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান দামের তুলনায় প্রতি প্যাকেটে ১০ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন মূল্য ১৫০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাবিত কর ও শুল্ক যুক্ত হলে প্রতিটি সিগারেটের দাম দাঁড়াবে প্রায় ২৫ টাকা ৪৫ পয়সা।

অন্যদিকে মধ্যম ও নিম্নস্তরের সিগারেটের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ৮০ ও ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর ও শুল্ক সংযোজনের পর প্রতি শলাকার মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১৭ টাকা ১ পয়সা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা গেলে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধূমপান ত্যাগে উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে তিন লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ নতুন করে ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এ উদ্যোগের ফলে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দেশে তামাক ব্যবহারের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

সংগঠনগুলোর দাবি, নতুন মূল্য ও কর কাঠামো কার্যকর হলে সরকারের তামাক খাত থেকে রাজস্ব আদায় ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ধূমপান নিরুৎসাহিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সিগারেটের সহজলভ্যতা কমাতে কঠোর মূল্যনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}