সৈয়দ উসামা বিন শিহাব | ঢাকা উত্তর ব্যুরো প্রধান

রাজধানীর পল্লবীতে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক দম্পতির ওপর হামলা, মারধর, ছুরিকাঘাত এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আহত দম্পতি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী মো. নয়ন মোল্লা পল্লবী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি তার স্ত্রী মায়ের জমাকৃত ব্যাংকের টাকা উত্তোলন করে বাসায় ফেরেন। এরপর থেকেই ওই টাকার ভাগাভাগি নিয়ে স্ত্রীর সৎ ভাই-বোনদের সঙ্গে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। দীর্ঘদিনের সেই বিরোধের জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি পরিবারের।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৭ মে) দুপুরে শাহীনুর, জসিম কাজী, শিমুল কাজী, বাপ্পি কাজী, হেনা ও তানিয়াসহ কয়েকজন সেকশন-১১ এর ব্লক-ই এলাকায় নয়ন মোল্লার বাসার সামনে গিয়ে টাকার ভাগ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এ সময় নয়নের স্ত্রী সমানভাবে টাকা বণ্টনের কথা বললে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

একপর্যায়ে নয়নের স্ত্রীর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় শিমুল কাজী হাতে থাকা সুইচ গিয়ার দিয়ে তার বাম হাতে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে নয়ন মোল্লাকেও এলোপাতাড়িভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, হামলার পর তারা নিজেদের বাসার দরজা বন্ধ করে ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু বিকেলের দিকে অভিযুক্তদের কয়েকজন জোরপূর্বক দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে পুনরায় হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে নয়নের হাত ও পিঠে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

এছাড়া হামলার সময় নয়নের স্ত্রীর গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় পরিবারটিকে বাসা থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেয় বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

পরে স্থানীয় স্বজনরা আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার নয়ন মোল্লা পল্লবী থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সঙ্গে চিকিৎসাপত্র ও আঘাতের প্রাথমিক প্রমাণাদি সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর আওতাধীন পল্লবী থানার একটি সূত্র অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}