**চট্টগ্রাম | ০৮ মে ২০২৬**
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় এক যুবককে জনসম্মুখে গুলি করে হত্যা করেছে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। নিহতের নাম হাসান রাজু, যিনি রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকার বাসিন্দা। এই ঘটনায় রেশমি আক্তার নামে ১২ বছরের এক শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রৌফাবাদের বাঁশবাড়িয়া বিহারি কলোনি এলাকায় পাঁচ থেকে ছয়জন মাস্ক পরা যুবক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে হাসান রাজুকে ‘ধর ধর’ বলে তাড়া করে। রাজু পালানোর চেষ্টা করলে তাকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি চালানো হয়।
দৌড়ানোর একপর্যায়ে রাজু মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাকে পা দিয়ে চেপে ধরে এবং মাথার কাছে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। প্রত্যক্ষদর্শী ফরিদা আক্তার জানান, গুলির শব্দে চারপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও অস্ত্রধারীদের হাতে পিস্তল দেখে কেউ রাজুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার সাহস পাননি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডটি একটি পরিকল্পিত ‘টার্গেট কিলিং’। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গত ২৬ এপ্রিল রাউজানে প্রবাসী ও যুবদল কর্মী নাসির উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতেই রাজুকে খুন করা হয়েছে।
সন্দেহের তির পলাতক সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হানের দিকে। রায়হান বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের অনুসারী এবং অন্তত ১৪টি খুনের মামলার আসামি।
নিহত নাসিরের পরিবার আগে রাজুর বিরুদ্ধে নাসির খুনের অভিযোগ তুলেছিল। যদিও রাজুর বোন রুমা আক্তারের দাবি, তার ভাই একজন দিনমজুর এবং কোনো অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন না।
মাত্র এক মাস আগে (১৪ এপ্রিল) একটি কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছিলেন হাসান রাজু। নিহতের মা সখিনা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার ছেলে কোনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়। মেয়ের মুখে বাবা ডাক শোনার আগেই তাকে চলে যেতে হলো।”
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম জানান, পূর্ববিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।